শবে কদরের (লাইলাতুল কদর) নামাজের নিয়ম, দোয়া ও ফযিলত

পবিত্র রমজান মাস একটি বরকতময় মাস আর এই পবিত্র রমজান মাসের একটি রাতকে মহান আল্লাহতালা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ করেছেন, এ রাতকে আমরা শবে কদরের রাত বলে জানি। আজকে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত, এড়াতে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে থাকে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে অনেকেই এড়াতে ইবাদত-বন্দেগী করতে ইচ্ছুক। এজন্য তারা অনেকেই ইন্টারনেটে শবে কদরের নামাজের নিয়ম এবং দোয়া ও ফজিলত সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাই আজকের পোস্টে আমরা আপনাদের সাথে পবিত্র লাইলাতুল কদর এর সম্পূর্ণ বিস্তারিত তথ্য এবং এই নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয় এ সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। আশা করি আপনাদের এই পোস্টটি অনেক ভালো লাগবে।

‘শবে কদর’ ফারসি ভাষা আর কোরআনের ভাষায় এ রাতের নাম ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুল’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা বা মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো—ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। যেহেতু এ রাতের মাধ্যমে আমাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে থাকে তাই আমাদের সকল মুসলমানদের উচিত ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে দেওয়া।

লাইলাতুল কদর নামাজ কবে ২০২২

আজকে পবিত্র এবং অনেক মহামান্বিত লাইলাতুল কদরের রাত। আজকে বাংলাদেশ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। অনেকেই ইন্টারনেটে জানতে চেয়েছেন জে বাংলাদেশে লাইলাতুল কদরের নামাজ কবে হবে? তাই আপনাদের কে জানাতে চাই জে আজকে ২৯ শে এপ্রিল পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের নামাজ হবে। আজকে রাতে সকল মুসলিমদের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে তাকে, তাই এই রাতকে ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণী রাত বলা হয়ে থাকে।

শবে কদরের নামাজের নিয়ম

আজকে পবিত্র ও মহামান্বিত শবে কদরের রাত। এড়াতে অন্যান্য রাতের তুলনায় অনেক গুন সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। এজন্য সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এড়াতে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা অত্যন্ত আবশ্যক। আমরা লক্ষ্য করেছি যে অনেকেই শবে কদরের নামাজের নিয়ম জানতে চেয়েছেন। কেননা সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আমরা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার নিকট সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। আপনি যদি শবে কদরের নামাজের নিয়ম না জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই নামাজে যাওয়ার আগে এই নিয়মগুলো জেনে নিন।

শবে কদরের নফল নামাজ দু‘রাকাত করে যত বেশী পড়া যায় তত বেশি ছওয়াব। নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ইখলাছ, সূরা ক্বদর, আয়াতুল কুরছী বা সূরা তাকাছুর ইত্যাদি মিলিয়ে পড়া অধিক ছওয়াবের কাজ। এই ভাবে কম্পক্ষে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। এর বেশি যত রাকাত আদায় করা যায় ততই ভালো।

কেউ যদি উপরে উল্লেখিত সূরাগুলো না পারেন তাহলে সূরা ফাতিহা পড়ার পর যে সূরাগুলো আপনি পারেন তার মধ্য থেকে প্রতি রাকাতে একটি করে সূরা মিলিয়ে নিতে হবে। এছাড়া সালাতুল তাওবা, সালাতুল হাজত, সালাতুল তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। পাশাপাশি রাতের শেষভাগে কমপক্ষে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার অবশ্যই চেষ্টা করবেন।

  • সঠিক পদ্ধতিতে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াতে হবে।
  • শবে কদরের জন্য দুই রাকাত নফল নামাজের জন্য নিয়ত করতে হবে। (বাংলা অথবা আরবিতে)
  • আল্লাহু আকবার বলে সানা পাঠ করতে হবে।
  • তারপর সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর এর সাথে কুরআনের কোন আয়াত অথবা যে কোন সূরা সংযুক্ত করে পড়তে হবে। (সূরা ইখলাছ, সূরা ক্বদর, আয়াতুল কুরছী বা সূরা তাকাছুর ইত্যাদি মিলিয়ে পড়া অধিক ছওয়াবের কাজ)
  • এভাবে সাধারণ নামাযের মত করে সূরা পাঠ করার পর রুকু এবং সেজদা দিতে হবে।
  • তারপর প্রথম রাকাতের মতো দ্বিতীয় রাকাত নামাজ আদায় করে তাশাহুদ, দুরুদ শরীফ এবং মাসুরা পাঠ করে সালাম ফেরাতে হবে।

শবে কদরের নামাজের নিয়ত:

আপনি যদি শবে কদরের নামাজের নিয়ত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে এখানে আপনি তা খুব সহজেই জানতে পারবেন। পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতের নামাজের আরবি এবং বাংলা নিয়ত আমরা এখানে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আপনি যদি আরবি ভাষা জেনে থাকেন তাহলে আপনি আরবীতে নিয়ত করবেন এবং আপনার যদি আরবি ভাষা না জানা থাকে তাহলে আপনি বাংলাতে শবে কদরের নামাজের নিয়ত করতে পারেন। তাহলে চলুন আমরা এখন শবে কদরের নামাজের নিয়ত বাংলা ভাষা এবং আরবি ভাষায় জেনে নিই।

শবে কদরের নামাজের নিয়ত আরবিঃ “নাওয়াইতুআন্ উছল্লিয়া লিল্লা-হি তা‘আ-লা- রাক‘আতাই ছালা-তি লাইলাতুল কদর-নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কা‘বাতিশ্ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার”।

শবে কদরের নামাজের বাংলা নিয়তঃ “আমি ক্বেবলামূখী হয়ে আল্লাহ্ এর উদ্দেশ্যে শবে কদরের দু‘রাক‘আত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবার”।

পবিত্র শবে কদরের নামাজের সূরা

অনেকেই শবে কদরের নামাজের সূরা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছেন। তাই এখন আমরা আপনাদের সাথে কদরের রাতের সূরা সম্পর্কে জানাবো। শবে কদরের নামাজের কোন সূরা নেই। কিন্তু নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ইখলাছ, সূরা ক্বদর, আয়াতুল কুরছী বা সূরা তাকাছুর ইত্যাদি মিলিয়ে পড়া অধিক ছওয়াবের কাজ। এছাড়াও আপনি যদি এসকল ছড়াগুলো না জেনে থাকেন তাহলে আপনার ইচ্ছামত যে সূরাটি আপনি পারেন সেটি দিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন।

এভাবে আপনি প্রতি দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে পারেন। কিন্তু এই নামাজ যত বেশি পড়া যাবে ততো বেশি সওয়াব তবে আপনাকে অবশ্যই কমপক্ষে রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। এছাড়াও আপনি যদি ইচ্ছা করেন তাহলে যেতে বেশি রাকাত নামাজ আদায় করতে পারেন।

শবে কদর কবে – শবে কদরের নামাজ কবে

আমাদের মধ্যে অনেক মুসলমান গান জানতে চেয়েছেন যে শবে কদর কবে এবং শবে কদরের নামাজ কবে আদায় করতে হবে। আসলে এই রাত সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন তারিখ বা দিন নেই। তবে আমাদের দেশে পবিত্র রমজান মাসের 27 তারিখে রাতকে শবে কদরের লাইলাতুল কদরের রাত বলা হয়। সেই হিসেবে আজকে ২৯ শে বাংলাদেশে শইবে কদরের নামাজ।

** মহানবী রাসুল (সাঃ)  বলেছেন-  কেউ যদি লাইলাতুল কদর বা শবে কদর খুঁজতে চায় তাহলে সে যেন জমাদানের শেষ ১০ রাত্রে লাইলাতুল কদর খোঁজ করে। ( মুসলিম, হাদিস নং- ৮২৩) এজন্য আমাদের উচিত রামাযানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় (২১,২৩,২৫,২৭ ও ২৯) তম রাতগুলো বেশি বেশি গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতের সাথে কাটানো।

শবে কদরের দোয়া

পবিত্র শবে কদরের রাত আমাদের ভাগ্য নির্ধারণী রাত। এই রাতে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। তাই এড়াতে আমাদেরকে বেশি বেশি ইবাদত করতে হবে এবং এর পাশাপাশি দোয়া করতে হবে। অনেকেই ইন্টারনেটে শবে কদর সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক হয়েছেন। তাই এখন আমরা আপনাদের সাথে পবিত্র শবে কদরের দোয়া শেয়ার করব।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে:-

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

এ ছাড়াও আল্লাহ তাআলার ক্ষমা লাভে কুরআনুল কারিমে তিনি বান্দার জন্য অনেক দোয়া তুলে ধরেছেন। যা নামাজের সেজদা, তাশাহহুদসহ সব ইবাদত-বন্দেগিতে পড়ার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। আর তাহলো-

 رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’

অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! (আমাকে) ক্ষমা করুন এবং (আমার উপর) রহম করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১১৮)

 رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৯)

 رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ

উচ্চারণ: ‘রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।’

অর্থ: ‘(হে আমার) প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৬)

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

 رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার বাবা-মাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১)

سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ

উচ্চারণ: ‘সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাছির।’

অর্থ: ‘আমরা (আপনার বিধান) শুনলাম এবং মেনে নিলাম। হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন। আপনার দিকেই তো (আমাদের) ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা আল-বাকারাহ : আয়াত ২৮৫)

 رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ  وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلاَنَا 

উচ্চারণ: ‘ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! যে বোঝা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই, সে বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। তুমিই আমাদের প্রভু।’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত ২৮৬)

 رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমানি।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ক্ষমা করুন এবং যারা আমাদের আগে যারা ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদেরকেও ক্ষমা করুন।’ (সুরা হাশর : আয়াত ১০)

 رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়াংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন। আমাদের কাজের মধ্যে যেখানে তোমার সীমালঙ্ঘন হয়েছে, তা মাফ করে দিন। আমাদের কদমকে অবিচল রাখুন এবং অবিশ্বাসীদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৭)

رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআল আবরার।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! সুতরাং আমাদের গোনাহগুলো ক্ষম করুন। আমাদের ভুলগুলো দূর করে দিন এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমাদের শেষ পরিণতি দান করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)

শবে কদরের ফজিলত

সকল মুমিন মুসলমানদেরকে পবিত্র শবে কদরের রাতের ফজিলত সম্পর্কে জানা আবশ্যক। লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র কুরআন ও সহীহ-হাদীস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। তাই আমাদেরকে অবশ্যই এড়াতে এবাদত বন্দেগী করতে হবে। চলুন এখন আমরা পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতের ফজিলত সম্পর্কে জানি।

  • এ রাতটি হাজার মাস হতে উত্তম- কল্যাণময় (কুরআন)
  • পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছে এ রাতেই। (কুরআন)
  • এ রাতে ফেরেস্তা নাযিল হয় এবং আবেদ বান্দাহদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
  • ফজর পর্যন্ত এ রাতে পুরাপুরি শান্তি ও নিরাপত্তার (কুরআন)
  • এ রাতে প্রত্যেকটি ব্যাপারে অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও সুদৃঢ় ফায়সালা জারি করা হয়। (কুরআন)
  • এ রাতে ইবাদতে মশগুল বান্দাদের জন্য অবতরণকৃত ফেরেশতারা দু’আ করেন। (হাদিস)
  • গুনাহ মাফ : ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান সহকারে ও আল্লাহর নিকট হতে বড় শুভফল লাভের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, তার পিছনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ (বুখারি-মুসলিম)
  • এ রাতে কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগ্য লোক ছাড়া আর কেউ বঞ্চিত হয় না। (ইবনে মাজাহ-মিশকাত)

শবে কদরের নামাজ কত রাকাত

পবিত্র শবে কদরের নামাজ কত রাকাত তা অনেকেই জানতে চেয়েছেন। এ রাতের নামাজের নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই। আপনি দুই রাকাত করে যত রাকাত নামাজ আদায় করতে পারবেন আপনি তত বেশি সওয়াব পাবেন। তাই দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করতে করতে সর্বনিম্ন 12 রাকাত নামাজ আদায় করা এই রাতের জন্য উত্তম।

শবে কদরের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয়

নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ইখলাছ, সূরা ক্বদর, আয়াতুল কুরছী বা সূরা তাকাছুর ইত্যাদি মিলিয়ে পড়া অধিক ছওয়াবের কাজ। এছাড়াও আপনি চাইলে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর পবিত্র কোরআন শরীফ হতে যেকোনো একটি সুরা পড়তে পারেন।

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ম

আজকে পবিত্র লাইলাতুল কদর শবে কদরের রাত। এই রাতে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। তাই অনেক মুসলমানগন এ রাতে সারারাত ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে থাকে। অনেকেই ইন্টারনেট লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাই এখন আমরা আপনাদের সাথে লাইলাতুল কদর নামাজ আদায় করার নিয়ম জানাবো। আপনি প্রতি দুই রাকাত করে লাইলাতুল কদরের নামাজ আদায় করতে পারেন। যত বেশি নামাজ আদায় করবেন তত বেশি সওয়াব পাবেন, তবে সর্বনিম্ন নামাজ আদায় করা অত্যন্ত আবশ্যক।

সূরা ফাতিহার পর যেকোনো দুই রাকাত করে করে এই লাইলাতুল কদরের নামাজ পড়তে পারেন। আজকের উপরের অংশে আমরা ইতোমধ্যে শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।

সর্বশেষ কথা

আজকের সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আজকের পোষ্টে আমরা আপনাদের সাথে পবিত্র শবে কদরের লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম, দোয়া ও এর ফজিলত সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনারা আমাদের আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে শবে কদরের নামাজ আদায় করার নিয়ম এবং এর ফজিলত সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনার যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে সকলের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

আরও দেখুনঃ

শবে বরাতের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত জানুন

শবে বরাত কবে ২০২২ বাংলাদেশে এবং সৌদি আরবে দেখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: