পহেলা বৈশাখের কবিতা ও ছন্দ – বাংলা নববর্ষ ১৪২৯

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির অনেক বড় একটি উৎসব। প্রতিবছর এই নতুন বছরকে বিভিন্ন আনুষ্ঠিকতার মাধ্যমে উদযাপিত হয়ে থাকে। আপনিও যদি বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চান তাহলে খুব সহজেই আপনিও তা করতে পারেন। পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা বার্তা আপনার বন্ধু বান্ধব সকলকে পাঠিয়ে দিতে পারেন। এছাড়াও পহেলা বৈশাখের কবিতা অথবা নববর্ষের ছন্দ মেসেজ আকারে লিখে পাঠাতে পারেন।

আপনি যদি গুগলে পহেলা বৈশাখের কবিতা ও ছন্দ খোঁজে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা আজকের এই পোস্টে আপনাদের জন্য বাংলা নববর্ষের অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতা এবং ছন্দ শেয়ার করব। এছাড়াও আপনি এখান থেকে বিভিন্ন মহান কবিদের লেখা কবিতা গুলো সংগ্রহ করতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে চলুন আজকের পোস্ট শুরু করি।

পহেলা বৈশাখের কবিতা

পোস্টের শুরুতেই আমরা আপনাদের সাথে বেশ কয়েকটি পহেলা বৈশাখের কবিতা শেয়ার করব। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আপনাদের জন্য এসকল নববর্ষের কবিতা সংগ্রহ করেছি। আশা করি এখানে শেয়ার করা সকল কবিতাগুলো আপনাদের অত্যন্ত ভালো লাগবে। আপনি ইচ্ছা করলেও কবিতা গুলো কপি করে আপনার ভালোবাসার মানুষ বা বন্ধু-বান্ধবদের মাঝেও শেয়ার করতে পারেন।

কবিতা ০১

বাজে ঢোল বাজে ঢাক
ঐ এলো বৈশাখ !!””
মেলা হবে খেলা হবে
হবে কবি গান,,,,

বৈশাখে বাঙালির নাচে মন প্রাণ !!””
মন নাচে প্রাণ নাচে
হাসে কবি গুরু
ঝড় এলে বুক কাঁপে
ভয়ে দুরু দুরু !!”””

কবিতা ০২

বছর ঘুরে এলো আবার প্রহেলা বৈশাখ
বাঙ্গালী তাই সেজেছে আজ নববর্ষের সাজ !
জাতিভেদ ভুলে গিয়ে এক কাতারে তারা
বর্ষবরনের আনন্দে হয়েছে দিশেহারা !!

পান্তা ইলিশ, পিঠাপুলি আর বৈশাখী মেলায় ‘’
নাচে গানে উল্লাসে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ;’’
হাল খাতার রঙে রঙিন বাজারে দোকান
একই কন্ঠে তারাও গাইছে সাম্য মৈত্রের গান !!

এসো তাই ভুলে যাই জাতি বর্ণ বিদ্বেষ,,,
সারা বছর মিলেমিশে থাকবো মোরা বেশ !!”

কবিতা ০৩

বৈশাখের মেলাতে
ঘুরতে ফিরতে
উঠতে বসতে
ধরতে ছাড়তে ,,,,

দেখি কত যুবতী
হাসছে গাইছে
কেনাকাটা করছে
খাচ্ছে দাচ্ছে
কোমড় দুলিয়ে হাটছে !!””

লাল পাড়ে সাদা শাড়ি
ছেলেদের নজর কাড়ি
এ যেন রসের হাড়ি
নয় কোন বাড়াবাড়ি !!””

ছেলেরাও কম না
টিএসসি রমনা
সারাদিন কাটিয়ে
যায় মেয়ে পটিয়ে !!””

পহেলা বৈশাখের ছন্দ

বিভিন্ন ইভেন্ট উপলক্ষে আমরা ইন্টারনেটে বিভিন্ন ছন্দ খুজে থাকি। তেমনি পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ নিয়ে বিভিন্ন রকম ছন্দ রয়েছে। এখন আমরা আপনাদের সাথে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহকৃত পহেলা বৈশাখের ছন্দ বা বাংলা নববর্ষ ছন্দ গুলো শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশা করি এসকল ছন্দ গুলো আপনাদের অনেক পছন্দ হবে এবং অনেক ভালো লাগবে।

বৈশাখে লেখা হাজারো কবিতা ও ছন্দ
তোমার চলে যাওয়াতে লাগে মন্দ।বসন্ত নিয়ে আমার মাঝে তোমার আসা
তোমার সাথে মোর হাজারো ভালোবাসা। শুভ নববর্ষ…

বাজে ঢোল বাজে ঢাক
ঐ এলো বৈশাখ !!””
মেলা হবে খেলা হবে
হবে কবি গান,,,,

বৃষ্টি বিহীন, বৈশাখী দিন
দমকা বায়ে, নূপূর পায়ে
যখন আসে, গন্ধ ভাসে !!”””

পাকা আমের কালো জামের
সঙ্গে লিচু, আরো কিছু
ফলের সাথে সবাই মাতে !!”””

আসলে ঝড়, কন্ঠ স্বর
হয়রে ভারী, তবুও আড়ি
ভাঙে ঘর, ভাঙে চর
কান্না বাড়ে, নদীর পাড়ে !!”””

বৈশাখে বাঙালির নাচে মন প্রাণ !!””
মন নাচে প্রাণ নাচে
হাসে কবি গুরু
ঝড় এলে বুক কাঁপে
ভয়ে দুরু দুরু !!

পহেলা বৈশাখের রোমান্টিক কবিতা

ভালোবাসার মানুষকে বিভিন্ন রকম রোমান্টিক কবিতার মাধ্যমে তাকে আকর্ষণ করা সম্ভব। আজকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা মেলায় ঘুরতে যাবে। আবার অনেকেই প্রেমিকা বা প্রেমিকের রোমান্টিক কবিতা পাঠিয়ে থাকবে। আপনিও যদি আপনার ভালোবাসার মানুষকে পহেলা বৈশাখের রোমান্টিক কবিতা পাঠাতে চান তাহলে এখান থেকে এখনই বাংলা নববর্ষের রোমান্টিক কবিতা সংগ্রহ করুন। আশাকরি রোমান্টিক কবিতা গেল আপনার এবং আপনার ভালবাসার মানুষের মন কেড়ে নিবে।

কবিতা ০১

উচ্ছ্বাসের এই দিনে নবীন
ছড়াও প্রেমের বার্তা ,,
তোমরা জাতির ধরবে হাল
আর হবে দেশের কর্তা !!””

শোষণ যুলুম রুখে দাড়াও
তাড়াও দুখের দিন ,,
সব বেদনা ভুলে বাজাও
হেথায় সুখের বীণ !!””

এদেশ আমার জন্মভূমি
এদেশ আমার প্রাণ ,,
কাঁদলে কেউ দুখে
পড়ে হৃদয় সুতোয় টান !!””

পুরোনো সব দুঃখ ভুলে
ফিরে এলো প্রহেলা বৈশাখ,,
সব ভেদাবেদ ভুলে বাজাও
ন্যায় শাসনের হর্ষ !!””

কবিতা ০২

বৃষ্টি বিহীন, বৈশাখী দিন
দমকা বায়ে, নূপূর পায়ে
যখন আসে, গন্ধ ভাসে !!”””

পাকা আমের কালো জামের
সঙ্গে লিচু, আরো কিছু
ফলের সাথে সবাই মাতে !!”””

আসলে ঝড়, কন্ঠ স্বর
হয়রে ভারী, তবুও আড়ি
ভাঙে ঘর, ভাঙে চর
কান্না বাড়ে, নদীর পাড়ে !!”””

কবিতা ০৩

পহেল বৈশাখের নতুন প্রভাতে
পাখিরা গাইছে গান ,,
আপন বেগে বহিছে নদী
শোন নদীর কলতান !!”””

প্রভাতে সোনার বরণ রবি
উঠিয়াছে পূর্ব গগনে ,,
মাধবী, মালতী, টগর, করবী
ফুটিয়াছে বনে বনে !!””’

ফুলে ফুলে উড়ে প্রজাপতি
সমীরণ সৌরভ ছড়ায় ,,
মাতিয়া উঠে সবাকার প্রাণ
খুশিতে হৃদয় ভরে যায় !!””

পহেলা বৈশাখের এই নবীন প্রভাতে
প্রাণে জাগুক নব নব আশা ,,
পহেলা বৈশাখের আজিকে সবাই
নিও মোর প্রীতি ও ভালবাসা !!””

বৈশাখের কবিতা আবৃত্তি

বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের বিভিন্ন রকম বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। এসকল অনুষ্ঠানে বৈশাখের কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এসকল প্রতিযোগিতায় অনেক শিশু কিশোর অংশগ্রহণ করে থাকেন। আপনি যদি বাংলা নববর্ষের কবিতা খুঁজে থাকেন তাহলে এখান থেকে এখনই বৈশাখের কবিতা আবৃতি গুলো সংগ্রহ করতে পারেন।

হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ।
ধুলায় ধূসর রুক্ষ উড্ডীন পিঙ্গল জটাজাল,
তপঃক্লিষ্ট তপ্ত তনু,
মুখে তুলি বিষাণ ভয়াল কারে দাও ডাক
হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ।

ভীষণ, তোমার প্রলয়সাধন প্রাণের বাঁধন যত
যেন হানবে অবহেলে।
হঠাৎ তোমার কণ্ঠে এ যে আশার ভাষা উঠল বেজে,
দিলে তরুণ শ্যামল রূপে করুণ সুধা ঢেলে।

বৈশাখ হে, মৌনী তাপস,
কোন‌ অতলের বাণী এমন কোথায় খুঁজে পেলে।
তপ্ত ভালের দীপ্তি ঢাকি মন্থর
মেঘখানি এল গভীর ছায়া ফেলে।

রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো-আনো-আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।

আনন্দে আতঙ্কে নিশি নন্দনে উল্লাসে
গরজিয়া মত্ত হাহা রবে
ঝার সঞ্জীব বাধ উন্মাদিনী কালবৈশাখীর নৃত্য হোক তবে।

বীণাতন্ত্রে হানো_হানো খরতর ঝংকারঝঞ্ঝনা,
তোলো উচ্চসুর। হৃদয় নির্দয়ঘাতে ঝর্ঝরিয়া ঝরিয়া পড়ুক প্রবল প্রচুর।
ধাও গান, প্রাণভরা ঝড়ের মতন ঊর্ধ্ববেগে অনন্ত আকাশে।
উড়ে যাক, দূরে যাক বিবর্ণ বিশীর্ণ জীর্ণ পাতা বিপুল নিশ্বাসে।

নজরুলের নববর্ষের কবিতা

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বেশ কয়েকটি কবিতা লিখেছিলেন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনেকেই গুগলে নজরুলের নববর্ষের কবিতা খুঁজে বেড়ায়। তাই এখন আমরা আপনাদের সাথে কাজী নজরুল ইসলামের পহেলা বৈশাখের কবিতা শেয়ার করলাম।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখির ঝড়।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!
এই কবিতাটি সকলের মনে আছে। কাজী নজরুল ইসলাম পহেলা বৈশাখকে জয় ধ্বনির মাধ্যমে বরণ করে নিতে বলেছিল। নতুনকে সানন্দে আলিঙ্গন করে নিতে বলেছিল। আজকের এই নিবন্ধে আমরা নজরুলের পহেলা বৈশাখের কিছু কবিতা দেখে নিব।

প্রলয়োল্লাস
কাজী নজরুল ইসলাম

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখির ঝড়।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

আস্ছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল,
সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙ্ল আগল।
মৃত্যু-গহন অন্ধ-কূপে
মহাকালের চণ্ড-রূপে–
ধূম্র-ধূপে
বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আস্ছে ভয়ঙ্কর–
ওরে ঐ হাস্ছে ভয়ঙ্কর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঝামর তাহার কেশের দোলায় ঝাপ্টা মেরে গগন দুলায়,
সর্বনাশী জ্বালা-মুখী ধূমকেতু তার চামর ঢুলায়!
বিশ্বপাতার বক্ষ-কোলে
রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে
দোদুল্ দোলে!
অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর–
ওরে ঐ স্তব্ধ চরাচর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন-কটায়,
দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়!
বিন্দু তাহার নয়ন-জলে
সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে
কপোল-তলে!
বিশ্ব-মায়ের আসন তারি বিপুল বাহুর `পর–
হাঁকে ঐ ’জয় প্রলয়ঙ্কর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

মাভৈ মাভৈ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে!
জরায়-মরা মুমূর্ষদের প্রাণ লুকানো ঐ বিনাশে!
এবার মহা-নিশার শেষে
আস্বে ঊষা অরুণ হেসে
করুণ বেশে!
দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু চাঁদের কর,
আলো তার ভর্বে এবার ঘর।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঐ সে মহাকাল-সারথি রক্ত-তড়িত-চাবুক হানে,
রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন বজ্র-গানে ঝড়-তুফানে!
খুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায় নীল খিলানে!
গগন-তলের নীল খিলানে।
অন্ধ করার বন্ধ কূপে
দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে
পাষাণ স্তূপে!
এই তো রে তার আসার সময় ঐ রথ-ঘর্ঘর–
শোনা যায় ঐ রথ-ঘর্ঘর।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? –প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!
আসছে নবীন– জীবন-হারা অ-সুন্দরে কর্তে ছেদন!
তাই সে এমন কেশে বেশে
প্রলয় বয়েও আস্ছে হেসে–
মধুর হেসে!
ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঐ ভাঙা-গড়া খেলা যে তার কিসের তবে ডর?
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!–
বধূরা প্রদীপ তুলে ধর্!
কাল ভয়ঙ্করের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর!–
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা

আমাদের আরেক কবি আমাদের মহান জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেশ কয়েকটি নতুন বছরের কবিতা লিখেছেন। বাংলা নববর্ষ বা রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা খুঁজে থাকেন তাহলে এখান থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবেন। এখন আমরা আপনাদের সাথে রবীন্দ্রনাথের লিখিত এসো হে বৈশাখ কবিতা টি শেয়ার করতে যাচ্ছি।

এসো হে বৈশাখ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এসো এসো এসো হে বৈশাখ
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষের দাও উড়ায়ে,,
বৎসরের আবর্জনা দুর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রু বাষ্প সুদূরে মিলাক !!””

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,,,,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুজ্মটিজাল যাক দূরে যাক !!””

বৈশাখের কবিতা ও ছবি

আপনি যদি ছবি আকারে বৈশাখের কবিতা খুঁজে থাকেন তাহলে এখান থেকে তা সংগ্রহ করতে। অনেকেই ছবিসহ বৈশাখের কবিতা গুলো পিকচার আকারে মোবাইল মেসেজ বা ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে শেয়ার করতে। তাই আপনাদের জন্য আমরা ছবির সাথে বৈশাখের কবিতা গুলা শেয়ার ‌ আশাকরি বৈশাখের কবিতা ও ছবি গুলো আপনাদের অনেক ভালো লাগবে

বৈশাখের ছড়া

শুধুমাত্র বড়রাই যে পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নতুন বছর উদযাপন করবে এরকম নয়। সকল শিশু-কিশোররাও এই বাংলা নতুন বছর উদযাপন করতে পারে। তাই আমরা এখন সকল শিশু কিশোরদের জন্য বৈশাখের ছড়া শেয়ার। আশাকরি অনেক মজার মজার বৈশাখের এই ছড়াগুলো অনেক ভালো লাগবে।

বৈশাখ এলো বলে

প্রকৃতি আজ সাজছে দেখ
নতুন করে, কেন?
ডালে ডালে ফুল ফোটেছে
খুশির জোয়ার যেন।
ঢোলক বাজে, তবলা বাজে
পুতুল নাচে তালে,
বৈশাখের-ই এই আয়োজন
বরণ করার কালে।

বৈশাখী
খালেক বিন জয়েনউদদীন

বৈশাখী মেয়ে এলো আমাদের গাঁয়েতে
কপালের টিপপরা রংমাখা পায়েতে।
ধানকুলা হাতে তার বাজে ঢাক-ঢোলক
হাসি-খুশী মুখখানা দোলে নাকে নোলক।
বৈশাখী মেয়ে এলো মেলা বসে মাঠেতে
খোকাখুকুর মন নেই একা একা পাঠেতে।

বাড়ি বাড়ি গান গায় মাতে নববর্ষে—
বরণের ডালাখানি হাতে নিয়ে হর্ষে।
তাই দেখে বৈশাখী হাসে বড় মুচকি—
দই-চিড়ে-সন্দেশ আরো খায় ফুচকি।
সার্কাসের হাতি-ঘোড়া ভালুকের মায়াতে
একবছর থেকে যায় পল্লীর ছায়াতে।

আজকে
জগলুল হায়দার

বাইরে ঘুরে দিন কাটাবো
বেলুন কিনে খুব ফাটাবো
হারিয়ে বোশেখ মেলায়
দই চিড়া আর খই মুড়িতে
আকাশ ছোঁয়া রং ঘুড়িতে
ভাসবো খুশীর ভেলায়।
মায়ের বকা বাবার গাল
থোরাই এসব পুরান চাল
আজকে সবই তুচ্ছ
আজকে শুধু উড়তে চাই
ঘুড়ির মতো ঘুরতে চাই
ছড়িয়ে মনের পুচ্ছ।

বাংলা বর্ষবরণের কবিতা

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আপনি যদি বর্ষবরণের কবিতা খুঁজে থাকেন তাহলে আপনি এখানে তা খুঁজে পাবেন। এখানে আমরা আপনাদের জন্য অনেক সুন্দর বাংলা বর্ষবরণ এর দুটি কবিতা শেয়ার করেছি। কবিতা দুটির লেখক হচ্ছেন একে দাস মৃদুল এবং অপরজন হচ্ছেন আশরাফুল আলম। আশা করি বাংলা বর্ষবরণের এই কবিতার দুটি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে।

বর্ষবরণ
– এ কে দাস মৃদুল
বৈশাখ
এলো রে
ঝড়ো হাওয়া বয়ে
বৃক্ষের ডালে নব পল্লবে,
ঘরে ঘরে আনন্দ ধারা নিয়ে;
পুরাতন ধুয়ে মুছে বৈশাখ এলো রে।

জীর্ণতা
পিছু ফেলে
যা ছিলো অনাদরে
নতুন দিনের তরুণ আলোয়,
হাটে মাঠে সার্বজনীন বরেণ্য উৎসবে;
পান্তা ইলিশের সুবাসে বৈশাখ এলো রে।

আগামীর
চলার পথে
সুনিপুণ স্বপ্ন বুকে
হাজার বছরের ঐতিহ্য লালনে,
বাঙালির ঘরে ঘরে শান্তির বারতায়;
হালখাতার নববর্ষ বরণের বৈশাখ এলো রে।

আনন্দ
মেলার মিছিলে
বাঁশরীয়ার বাঁশির সুরে
মানব মানবীর নব উল্লাসে,
ঢোল ডুগডুগির বাউল সঙ্গীতের নৃত্যে;
মনুষ্যত্বের মিলন মেলার বৈশাখ এলো রে।

বর্ষবরণ
– আশরাফুল আলম

নতুন বছর নতুন ক্ষণে,
পুরনো কথা পড়ছে মনে
পুরনো খাতায় হিসাব কষে
মনটা কাঁদে আজ দিবসে।

চাই না কিছু এই দিবসে
সে কি আর ফিরে আসে?
সময়চক্র চক্র নহে
ওর মতো ও যায়রে বহে
কিসের উল্লাস তাই হারিয়ে
কান্না আসে মুখ ফিরিয়ে।

সত্যি নতুন হইবো নাকি?
নয়তো আবার মিছে ফাঁকি!
ক্ষয়ে নুয়ে যাচ্ছে দেখি
কেমবা তাই বিশ্বাস রাখি।
চাই না আমি এই আবর্তন
চাই না ওরে আমার পতন
মানি না এই পরিবর্তন
থাকতে চাই আগের মতন।

সকল কিছু নতুন এনে
নিচ্ছে আমায় কোথায় টেনে?
ভাবছে এই মন ক্ষণে ক্ষণে।
নাইরে তাই আয়োজন মনে
আজিকার এই নববর্ষ বরণে।।

সর্বশেষ কথা

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ নিয়ে আজকের পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এই পোস্টে আমরা আপনাদের সাথে পহেলা বৈশাখের কবিতা এবং পহেলা বৈশাখের ছন্দ শেয়ার করার চেষ্টা। আশা করি এখানে শেয়ার করা বাংলা নববর্ষের কবিতা ও ছন্দ গুলো আপনাদের অনেক পছন্দ হয়েছে। আপনি চাইলে এখানে দেওয়া কবিতা ও ছন্দ গুলো মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে আপনার বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয়জনকে পাঠিয়ে দিতে। পোস্টটি ভাল লাগে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

আরও দেখুনঃ

[HD Quality] পহেলা বৈশাখের ছবি, পিকচার, ওয়ালপেপার, ফটো, ইমেজ

প্রেমিকাকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা, মেসেজ, পিকচার, বার্তা, কবিতা

নতুন বছরের শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস, মেসেজ, শুভেচ্ছা বাণী, এসএমএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: