মোটা হওয়ার সহজ প্রাকৃতিক উপায়

বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই।  আশাকরি সকলেই অনেক ভালো আছেন। আজকে আমরা আপনাদের জন্য অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পোষ্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।  আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের শারীরিক গঠন বা স্বাস্থ্য ভালো নয়।  অনেকের স্বাস্থ্য চিকন হওয়ার কারণে অনেকেই মোটা হওয়ার জন্য অন্যরকম ঔষধ খেয়ে যাচ্ছেন। তাই আপনাদের জন্য আজকে আমরা মোটা হওয়ার কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়ে কথা বলবো।

আপনি যদি মোটা হওয়ার সহজ প্রাকৃতিক উপায় জানতে চান তাহলে দয়া করে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়বেন।  আজকের পোষ্টে আমরা কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা হতে পারবেন সে বিষয় নিয়ে সম্পূর্ণ বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।  তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

মোটা হওয়ার সহজ প্রাকৃতিক উপায়

আমরা লক্ষ্য করেছি যে অনেকেই ইন্টারনেটে কি থেকে মোটা হওয়ার কৌশল জানতে চেয়েছেন।  কিন্তু অনেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা হওয়ার সঠিক কৌশল গুলো খুঁজে পাচ্ছেন না।  তাই আমরা আপনাদের সুবিধার জন্য এই পোস্টে কিভাবে আপনি খুব সহজেই প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা হতে পারবেন সে সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  আপনি যদি নিচে দেওয়া নির্দেশনাবলী ঠিকমত চলতে পারেন তাহলে আশা করি আপনি খুব সহজেই প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা হতে পারবেন।

১) ব্যায়াম করা

অনেকেই ভেবে থাকেন ওজন কমাতেই ব্যায়াম প্রয়োজন, কিন্তু এই ধারণা মোটেও ঠিক না। ওজন কমাতে যেমন ব্যায়াম  প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওজন বাড়াতেও ব্যায়াম করা খুবই প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শুধু দৌড় ঝাঁপই যথেষ্ট না। দরকার প্রতিদিন নিয়ম করে জিম করা। জিমে অভিজ্ঞ ট্রেইনার থাকেন। আপনার ওজন এবং চেহারা দেখে তিনিই আপনাকে বলে দিবেন কোন ব্যায়াম আপনার করতে হবে।

(২) বার বার খাবার গ্রহণ 

বার বার খাবার গ্রহণ প্রতিটি মানুষেরই করা উচিৎ। প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর অন্তর অল্প করে কিছু খেতে হবে। কিন্তু যারা ওজন বৃদ্ধি করতে চাচ্ছেন তারা ২ ঘন্টা পর পর বেশি করে খেতে হবে। এসময় আপনি দুধ, দই, ফল, ছানা ইত্যাদি দিয়েই পূরণ করতে পারেন। এতে আপনার শরীরে পুষ্টির পাশাপাশি ওজনও বৃদ্ধি পাবে। এটি মোটা হওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়।

(৩) খাবারে রাখুন কার্বোহাইড্রেড 

ওজন বৃদ্ধিতে কার্বোহাইড্রেড খুবই প্রয়োজন। খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেড অবশ্যই রাখবেন। ভাত ও রুটি কার্বোহাইড্রেডের প্রধান উৎস। তাই প্রতিদিন অন্তত ২ বার কার্বোহাইড্রেড খাবেন। ভাত ও রুটি কার্বোহাইড্রেডের প্রধান উৎস তার মানে এই নয় যে বেশি বেশি খাবেন। আপনাকে অতিরিক্ত ফ্যাটের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। তাই প্রতিদিন কার্বোহাইড্রেড খাবেন পরিমিত কিন্তু সাধারণের তুলনায় কিছুটা বেশি। মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

মেয়েদের ওজন কমানোর উপায় ও ডায়েট চার্ট

 (৪) বেশি ক্যালোরি গ্রহন

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে আমরা বেশি ক্যালোরি বার্ন করি এবং কম ক্যালোরি গ্রহণ করি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে উলটা হবে যতটুকু ক্যালোরি বার্ন করবেন তার দ্বিগুণ ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। ওজন বৃদ্ধির জন্য শরীরের চাহিদার তুলনায় বেশি ক্যালোরি নিন। ওজন দ্রুত বৃদ্ধি করতে চাইলে দিনে ৬০০-৭০০ ক্যালোরি বেশি গ্রহণ করতে হবে আর যদি ওজন আস্তে আস্তে বাড়াতে চান তাহলে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ক্যালোরি বেশি গ্রহণ করতে হবে। এভাবে এক সপ্তাহ করলেই আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে।

 (৫) সঠিক প্রোটিন গ্রহণ

ওজন বৃদ্ধি করতে শুধুমাত্র ক্যালোরিই যথেষ্ট না। ক্যালোরির পাশাপাশি সঠিক প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। সঠিক প্রোটিন গ্রহন না করলে ক্যালোরি বাড়তি ফ্যাটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন ডিম, ডাল ও দুধ অবশ্যই রাখবেন।

(৬) ড্রাই ফ্রুটস খাবেন 

ড্রাই ফ্রুটসে আছে প্রচুর ক্যালোরি ও ফ্যাট যা ওজন বৃদ্ধিতে অনেক কাজে দিবে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই ২টি কাজু ও ২টি কিসমিস খাবেন। এইটা কোনভাবেই ভুলবেন না। আর সকালের নাস্তায় রাখুন আমন্ড বা পেস্তা। ওজন বৃদ্ধিতে আপনার ডায়েট চার্টে বাদামের পরিমাণ বেশি রাখুন। এভাবে নিয়ম মেনে ড্রাই ফ্রুটস খেলে দেখবেন এক মাসের মধ্যেই আপনার ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

(৭) টেনশনমুক্ত থাকুন

সব সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে টেনশন। ওজন বৃদ্ধিতে যেমন টেনশনমুক্ত থাকা প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওজন কমাতেও টেনশনমুক্ত থাকা খুবই আবশ্যক। আজকাল টেনশনমুক্ত থাকা খুবই কঠিন তাও চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব টেনশনমুক্ত থাকার।

(৮) ঘুম

শরীর ঠিক রাখতে ঘুম খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা অবশ্যই ঘুমাতে হবে। এর থেকে কম হওয়া যাবে না। এছাড়া ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন নিয়ম করে ইয়োগা বা যোগাসন করুন। এতে আপনার ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

(৯) ঘুমানোর আগে দুধ মধু খান

ঘুমোতে যাওয়ার আগে এমন কিছু খেতে পারেন যা বেশ পুষ্টিকর এবং ক্যালোরিযুক্ত। কারণ সেটা ঘুমিয়ে পরছেন বলে খরচ হচ্ছে না এবং পুরো রাত আপনার শরীরে ক্যালোরির কাজ করবে এবং ওজন বৃদ্ধি করবে। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে দুধ ও মধু মিশিয়ে খান। এটি ওজন বৃদ্ধিতে পরীক্ষিত এবং মোটা হওয়ার সহজ উপায়।

(১০) বাহিরের খাবার

সচরাচর বাহিরের খাবার খেতে আমরা নিষেধ করে থাকি। কিন্তু ওজন বৃদ্ধিতে বাহিরের খাবার যেমন আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিঙ্কস, পেস্ট্রি, বার্গার ইত্যাদি খাবার খুবই কার্যকরী। তাই আপনি চাইলে এগুলো খেতে পারেন কিন্তু তা হবে পরিমাণমতো। আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে চকলেট এবং চিজও রাখতে পারেন।

শেষ কথা

 সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি আজকের মোটা হওয়ার সহজ প্রাকৃতিক উপায় নিয়ে পোস্ট টি আমাদের অনেক উপকারে আসবে।  যদি আপনি এই পোস্টটি লাইক করে থাকেন তাহলে আপনার যে বন্ধুটি ও মোটা হতে ইচ্ছুক তাকে শেয়ার করতে পারেন।  দয়া করে আমাদের পাশে থেকে আমাদের কে সাপোর্ট করবেন যাতে আমরা ভবিষ্যতে আপনাদের জন্য আরো অনেক প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট উপহার দিতে পারি।  তবে অবশ্যই অবশ্যই আজকের পোস্টে দেখানো পদ্ধতি গুলো ঠিকমতো মেনে চলবেন তাহলে আপনি সহজ উপায়ে মোটা হতে পারবেন।

আরও দেখুনঃ

খুব সহজে স্থায়ী ভাবে মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি? ১০টি কার্যকরী

মেয়েদের ওজন কমানোর উপায় ও ডায়েট চার্ট

খুব সহজে মেয়েদের প্রেমে ফেলার উপায় জেনে নিন

খুব সহজে মেয়ে পটানোর ডায়লগ

ঘরে বসে অনলাইন ইনকাম মোবাইল দিয়ে ১০০%

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: