স্বাধীনতা দিবস রচনা প্রতিযোগিতা ২০২২ (সকল শ্রেণি)

আবারো নতুন ভাবে আমাদের মাঝে চলে আসল মহান স্বাধীনতা দিবস। এই স্বাধীনতা দিবসে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এজন্য অনেকে স্বাধীনতা দিবস রচনা খুঁজে থাকে। আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের জন্য স্বাধীনতা দিবসের ভালো একটি রচনা দিয়েছি। আশা করছি এই রচনা টি আপনাদের ভালো লাগবে।

আমাদের দেওয়া এই স্বাধীনতা দিবস রচনা প্রতিযোগিতা  টি আপনারা যেকোনো শ্রেণির জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। এই রচনা টি পোস্টের নিচে সুন্ধর ভাবে উপস্থাপন করা আছে। তো যাদের যাদের স্বাধীনতা দিবসের ভালো একটি রচনা প্রয়োজন তারা নিচে থেকে দেখেনিন। তো পোস্ট টি শুরু করা যাক।

স্বাধীনতা দিবস রচনা প্রতিযোগিতা

আপনারা যারা স্বাধীনতা দিবসে রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিবেন তারা আমাদের এই রচনা টি পড়ে ভালো ভাবে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন। আশা করছি এই রচনাটি আপনাদের প্রতিযোগিতায় সাহায্য করবে। আমাদের এই স্বাধীনতা দিবসের রচনায় সূচনা হতে শুরু করে উপসংহার পর্যন্ত সকল কিছু বিস্তারিত দেওয়া আছে।

স্বাধীনতা দিবস রচনা

ভূমিকাঃ আমাদের জাতিয়ও দিবস গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে সবাধিনতা দিবস। যা প্রতবছর ২৬শে মার্চ পালন করা হয়। আমাদের মুক্তি যুদ্ধের মূল চেতনা প্রকাশ পায় এই স্বাধীনতার মধ্যে দিয়ে। বঙ্গুবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দিনটি তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তারপর দির্ঘ ৯ মাস রক্ত ক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসঃ আমাদের এই মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস অনেক। সেই দেশ বিভাগের পর থেকে দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের পিছনে অনেক ইতিহাস রয়েছে। বাঙ্গালিরা মুক্তি যুদ্ধের অনুপেরনা পায় সেই ২৬ শে মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পরথেকে।

আমাদের আজকের এই বাংলাদেশ অনেক আগে পাকিস্তানের একটি অংশ ছিল যার নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। আর আজকের এই পাকিস্তান ছিল পশ্চিম পাকিস্তান। এই দুই পাকিস্তানের মধ্যে অনেক ভেদাভেদ ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ আজকের এই বাংলাদেশে অনেক শাসন, শোষণ ও নির্যাতন করতো। সেই তখন থেকেই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে অনেক পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

তারপর পূর্ব পাকিস্তানের সাথে পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ভাষা নিয়ে বৈষম্য তৈরি হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা ছিল বাংলা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা ছিল উর্দু। পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের মুখের ভাষা কে কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তখ বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের এই অন্যায় আবদার মেনেনিতে পারে নি। এজন্য তারা ঢাকার রাজপথে মিছিল বের করে । এই মিছিল কে ১৪৪ দ্বারা জারি করে।

তবুও বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের মিছিল চালিয়ে যেতে থাকে। তখন এই মিছিল থামাতে না পেরে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এই গুলিতে বাংলা অএক মানুষ শহিদ হয়। এই ভাষা শহিদের স্মৃতি স্মরণে প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারী পালন করা হয়। এই থেকে মূলত মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস তৈরি হয়।

পাকিস্তানিদের আক্রমণঃ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ভাষণ। এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এরপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা ২৫ শে মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙ্গালিদের উপর রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করে।

এই রাতে প্রায় লাখো বাঙ্গালি কে হত্যা করা হয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা রক্তে রঞ্জিত করে তুলে পাকিস্তানি হানাদের বাহিনী। এছাড়া এই রাতেই বঙ্গ-বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গ্রেফতার করা হয়। এই জন্য এই ২৫ শে মার্চ কে কাল রাত হিসেবে অব্যাহত করা হয়।

পাকিস্তানিরা এই ২৫ শে মার্চ রাতে অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙ্গালিদের গণহত্যা করে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র দের গুলি করে মারে। এরপর বাঙালি বুদ্ধিজীবিদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়। সর্বশেষে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশ পাকিস্তানিদের আক্রমণ অব্যাহত রাখে।

স্বাধীনতা দিবসঃ বঙ্গ-বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ শে মার্চের প্রথম পহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার দেওয়া এই স্বাধীনতার ডাকের মাধ্যমে বাঙ্গালিরা মুক্তি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। এই স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে মুক্তি যুধে নামে। এবং দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এজন্য ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

স্বাধীনতার ঘোষণাঃ বঙ্গ বন্ধু সেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশকে শত্রু মুক্ত করতে প্রথম স্বাধীনতার ডাক দেন। এই স্বাধীনতার ঘোষণায় বাঙ্গালিদের যুদ্ধে নামার পুরো-পুরি ঘোষণা দেয়। তিনি ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি এই ঘোষণায় বলেন বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন।

যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যুদ্ধে নামার আহববান জানান বঙ্গ-বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর পর পাকিস্তানিরা বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গ্রেফতার করা হলে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটঃ বাঙ্গালিরা দেশ কে শত্রু মুক্ত করতে ঘরে ঘরে দুর্গ ঘরে তুলে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতা ও নারী সহ অনেক এই যুধে অংশ গ্রহণ করে। এই যুধে সোনার ই সমান অবদান রয়েছে। সব মিলিয়ে মুক্তি যুদ্ধে ভয়াভহ রূপ ধারণ করলে পাকিস্তানিরা পিছু পা হতে যায়। এর পর বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশকে নানা দিক থেকে সাহাযোর হাত বারিয়ে দেয়।

পরক্ষনে বাংলাদেশের মুক্তি বাহিনী ও ভারতের মিত্র বাহিনী মিলে যুদ্ধে নামলে পাকিস্তান সরকার যুদ্ধ চালাতে না পেরে হার মেনে নেয়। এর পর তারা বাংলাদেশের কাছে আন্তসমাপর্ন করে।

বিজয় অর্জনঃ ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সরকার ঢাকার সোহার্দী উদ্যানে 93 হাজার সৈন্য নিয়ে বাংলাদেশের কাছে যুদ্ধে আন্তসমাপর্ন করে। সেই দিন বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। ফলে বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে। এজন্য প্রতিবছর ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় দিবস পালন করে।

উপসংহারঃ দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙ্গালির রক্তের বিনিময়ে আমারা স্বাধীনতা অর্জন করি। এই মুক্তি যুদ্ধে দেশকে সবাধি করার জন্য সকলেরই অবদান গুরুত্ব পূর্ণ ছিলো। তারমধ্য অন্যতম হলো স্বাধীনতার ঘোষণা। মূলত এই স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন দেশ।

শেষ কথা

আশা করছি আপনারা সবাই স্বাধীনতা দিবস রচনা প্রতিযোগিতার জন্য স্বাধীনতা দিবসের রচনা সম্পর্কে ভালোভাবে ধারনা নিতে পেরেছেন। আশা করছি আজকের এই পোস্ট টি আপনাদের ভালোলেগেছে।  এই রকম আরও পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন। যেকোনো ধরনের সমস্যার সমাধান সংক্রান্ত তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট টি ভিজিট করতে পারেন। সেখানে অনেক সমস্যার সমধান নিয়ে পোস্ট দেওয়া আছে। আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য আপনাদের কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: