ফেসবুকে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করার নিয়ম

আজকে আপনাদের মাঝে ফেসবুক টু স্টেপ ভেরিফিকেশন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করব।  ইতোমধ্য আপনার ইতোমধ্য আপনারা ইতোমধ্যে অবগত আছেন যে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে যদি টু স্টেপ ভেরিফিকেশন এর আওতায় না নিয়ে আসেন তাহলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এটি অটোমেটিক্যালি বন্ধ করে দিতে পারে।  তাই আপনার  ফেসবুক সুরক্ষিত রাখার জন্য অবশ্যই টু স্টেপ ভেরিফিকেশন মেথড চালু করে নিন। 

আপনি যদি এই অপশনটি কিভাবে চালু করবেন তা না জেনে থাকেন তাহলে এখান থেকে তা জেনে নিতে পারবেন।  আমরা আজকে পোস্টে ধাপে ধাপে ফেসবুক টু স্টেপ ভেরিফিকেশন কিভাবে চালু করতে হয় তার নিয়ম দেখেছি।  তো যদি আপনার বুঝতে অসুবিধা কোনো অসুবিধা হয় তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

2 step ভেরিফিকেশন কি কিভাবে এটা কাজ করে

লক্ষ্য করেছি যে অনেকেই জানতে চেয়েছেন 2 step ভেরিফিকেশন কি কিভাবে এটা কাজ করে। তাই আমরা এখন আপনাদের মাঝে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন নিয়ে সম্পূর্ণ বিস্তারিত আলোচনা করব।  আপনি চাইলে পোস্ট এর নিচের দিক থেকে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন কি কিভাবে অন করতে হয় এবং এটি কিভাবে কাজ করে এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

টু স্টেপ ভেরিফিকেশন কি?

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন মূলত টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) এর সহজ একটি নাম। তবে, বোঝার সুবিধার্থে আমরা এই লেখায় পদ্ধতিটাকে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন নামেই উল্লেখ করবো।

এটি মূলত কী, তা জানার জানার আগে আমাদের জানতে হবে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) বিষয়টি সম্পর্কে। সহজ ভাষায় মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন হচ্ছে, কোন একটি ডিজিটাল একাউন্টে প্রবেশের জন্য ব্যাবহারকারীকে একাধিক উপায়ে যাচাই প্রক্রিয়া।

কেন এটি ব্যবহার করবেন?

টু-স্টেপ বা টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন কী তা আশাকরি ইতিমধ্যই আপনি বুঝতে পেরেছেন। এত আলোচনার পর নিশ্চয়ই এটাও বুঝতে পেরেছেন, যে এই ভেরিফিকেশন কেন গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি আপনার কোন অনলাইন অ্যাকাউন্টে এই ভেরিফিকেশন চালু করে রাখেন, তাহলে সেটি শুধুমাত্র পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করা যাবে না। পাসওয়ার্ড এর সাথে সাথে প্রয়োজন হবে একটি কোডের। অর্থাৎ, কেউ যদি কোনভাবে আপনার পাসওয়ার্ড জেনেও ফেলে তবুও সে আপনার একাউন্টে লগ ইন করতে পারবে না।

লগইন করার জন্য আপনার ফোনে আসা কোডটিও জানতে হবে তাকে। যেহেতু ফোন বা মেইলটি শুধুমাত্র আপনার কাছে থাকছে, তাই কোড জানার কোন সম্ভাবনাই নেই তার। ফলে আপনার একাউন্টটি থাকবে আরও সুরক্ষিত।

ফেসবুক টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করার নিয়ম

কিছুদিন আগে ফেসবুক হতে একটি ঘোষণা প্রকাশ করা হয় যে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তার স্বার্থে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন নেট চালু করতে হবে।  তাই অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী জানতে চেয়েছেন যে কিভাবে ফেসবুকে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ অপশনটি চালু করতে হয়।  আমরা এখন দীপক টু স্টেপ ভেরিফিকেশন সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করব।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক কিভাবে ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন ফিচারটি চালু করবেন। ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করতে প্রথমে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগিন করুন।

এরপর আপনার ফেসবুক অ্যাপ বা ব্রাউজার থেকে ফেসবুক Settings & Privacy এ ক্লিক করে Settings এ প্রবেশ করুন।

এরপর Security & Login এ প্রবেশ করুন।

কিছুটা নিছে স্ক্রল ডাউন করে ‘Use two-factor authentication’ এর পাশে থাকা Edit এ ক্লিক করুন।

এরপর আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড প্রদান করে আপনার যে নাম্বারে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কোড পেতে চান, সেটি প্রদান করে টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন ফিচার চালু করার সেটাপ সম্পন্ন করুন।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সম্পর্কে জরুরি বিষয়

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ফিচারটি চালু করার পর যাতে ঝামেলায় পড়তে না হয়, সেক্ষেত্রে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এতোটাই নিরাপদ যে এমনকি ফেসবুক একাউন্টের মালিক নিজেও লগিন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে।

টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন এর এমন নিরাপত্তার কারণে মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করলে ফেসবুকে লগিন নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। এই কারণে ফোন নাম্বার পরিবর্তন পরিবর্তন করলে অবশ্যই তা ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনেও পরিবর্তন করতে ভুল করবেন না।

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগিন করতে বিশাল সমস্যায় পড়তে পারেন আপনার হাতের কাছে থাকা ফোন নাম্বারের সাথে ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনের নাম্বার আপডেট না রাখলে। আর যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়াতে অবশ্যই রিকভারি কোডসমুহ নিরাপদে সংরক্ষণ করে রাখুন আগে।

ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ করার নিয়ম

ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন যদি আপনার কোনো কাজে না আসে, সেক্ষেত্রে খুব সহজেই ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ করতে পারবেন। ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ করতে Security & Login এ প্রবেশ করে Settings ট্যাবে প্রবেশ করুন।

এরপর ‘Use two-factor authentication’ এর পাশে থাকা Edit এ ক্লিক করুন। এরপর আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড প্রদান করে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ করতে Turn Off এ ক্লিক করুন। পরেরবার থেকে যখনই ফেসবুকে লগিন করবে আর টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন কোড দরকার হবেনা।

ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। তাই আমরা চেষ্টা করেছি ফেসবুক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সম্পর্কে আপনাদের সাধারণ প্রশ্নসমুহ সম্পর্কে উত্তর দিতে।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন আসলেই দরকারি কি?

হ্যা, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ফেসবুক অ্যাকায়ন্টের জন্য যথেষ্ট প্রয়োজনীয়।

ফেসবুক এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অনেক ব্যাক্তিগত তথ্য থাকে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সেট করার খুবই জরুরি।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কোড না আসলে কি করবো?

আপনার ফোনে যদি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কোড এর মেসেজ না আসে, সেক্ষেত্রে ফেসবুক রিকভারি কোড ব্যবহার করে লগিন করতে পারবেন।

শেষ কথা

সম্পুর্ন পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।  আশা করি আমাদের  আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনি ফেসবুকে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করার নিয়মসহ আরো সকল তথ্য জানতে পেরেছেন।  আমরা এই পোস্টে ফেসবুক টু স্টেপ ভেরিফিকেশন কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।  দয়া করে পোস্টটি জনস্বার্থে সবার সাথে শেয়ার করবেন।

আরও দেখুনঃ

ফেসবুক বিজনেস বিসনেজ পেজ খোলার নিয়ম

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: