২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস রচনা। ১০০০ শব্দের কালো রাত নিয়ে রচনা

আজকের পোস্টে আপনাদের কে স্বাগতম। এই পোস্টে আপনারা দেখতে পারবেন ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস নিয়ে সুন্দর একটি রচনা। তাই আপনারা যারা আজকের এই ২৫ মার্চ নিয়ে ভালো একটি রচনা পেতে চান তারা এই পোস্ট টি সম্পূর্ণ পড়ুন। এবং এই পোস্টে ২৫ শে মার্চ নিয়ে কিছু কথা বলা হয়েছে।

২৫ শে মার্চ হচ্ছে বঙ্গালী জাতিদের জন্য কাল রাত। তাই ২৫ শে মার্চ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই পোস্ট টি দেখতে পারেন।  তো আর দেরি না করে দেখেনিন ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস রচনা এবং গুরুত্ব পূর্ণ কিছু কথা জেনেনিন।।তাহলে পোস্ট টি শুরু করা যাক।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস

২৫ শে মার্চের অন্যতম একটি নাম হচ্ছে কাল রাত। কারণে ২৫ শে মার্চের এই রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঘুমন্ত মানুষের উপরে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। এই রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রক্তে রঞ্জিত করে তুলে। তাছাড়া এই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গ্রেফতার করা হয়। তো এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে রচনা টি দেখেনিন।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস রচনা

এখানে আপনাদের জন্য সুন্দর একটি রচনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এই রচনা টি পড়ে আপনারা ২৫ শে মার্চ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা লাভ করতে পারবেন। আশা করছি এই রচনা টি আপনাদের ভালো লাগবে। তো এই গণহত্যা দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে রচনা টি পড়া শুরু করেদিন।

সূচনাঃ ভারতবর্ষ বিভাগের পর পাকিস্তান নামে একটি দেশ গঠিত হয় যার দুই টি ভাগ ছিল। একটি হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তান এবং অন্যটি হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তান। এই দুই পাকিস্তান এর মধ্যে অনেক ব্যবধান ছিল যার কারণে এই দুই অংশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানিরা পশ্চিম পাকিস্তানিদের উপর অত্যাচার, জুলুম ও নানাভাবে নির্যাতন করতো। পূর্ব পাকিস্তানের সাথে পশ্চিম পাকিস্তানের বিবাদ সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল তাদের রাষ্ট্র ভাষা নিয়ে।

 ২৬ শে মার্চ বা স্বাধীনতা দিবসের পূর্বের ইতিহাসঃ দেশ বিভাগের পরথেকেই পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়। এ ভেদাভেদ শুরু হয় তাদের ভাষা নিয়ে। পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ আজকের এই বাংলাদেশের তখন ভাষা ছিল বাংলা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা ছিল উর্দু। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০০% মধ্যে ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা যা পূর্ব পাকিস্তানের আর পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা ছিল ৪৪%।

তবুও পশ্চিম পাকিস্তান চেয়ে ছিল তাদের সকলের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু করতে। এজন্য পশ্চিম পাকিস্তানের জেনারেল উর্দু কে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি জানান। যা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মেনে নেয়নি। সেই থেকে নানা ধরনের ভেদাভেদ তৈরি হয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে।

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনঃ আজকের এই বাংলাদেশে নানা ধরনের সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হতে হয়েছে। আজকে আমারা যে মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলতেছি তা মূলত ১৯৫২ সালের মধ্যে দিয়ে ঘতে যাওয়া এক সংগ্রামের মাধ্যমে। দেশ বিভাগের পর থেকেই আজকের এই বাংলাদেশে কে পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাংলা ভাষা কে কেড়ে নিতে চেয়েছিলও।

এর পর থেকে নানা ধরনের মিছিল, মিটিং হতে থাকে। বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ঢাকার রাজপথে মিছিল বের করে। এই মিছিল কে কোনো ভাবে থামাতে না পেরে পুলিশ মিছিলে গুলি করে। এই গুলিতে রফিক, শফিক, বরকত, সালাম, জব্বার সহ আরও অনেকে শহিদ হন।

তাদের এই রক্তে ঢাকার রাজপথ রক্তে লাল হয়ে যায়। তাদের এই স্মৃতি রক্ষার্থে শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার আমাদের এই বাংলা ভাষা কে মেনে নেয়।

৬দফা আন্দোলনঃ ১৯৬৬ সালের পাকিস্তানে একটি রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে শেষ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালিদের জন্য এক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। পশিম পাকিস্তানের বিরুদ্দে এই ৬ দফা দাবি পেশ করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালিরা বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে সবাই সমর্থন করে।

২৫ মার্চ এর গণহত্যাঃ পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী বাংলাদেশ কে কোনোদিক দিয়ে একটু ছার দেয়নি। পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের এই বাংলাদেশ কে অনেক শাসন ও শোষণ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জন্য এক কাল রাত হছে ২৫ শে মার্চ। এই রাতে বাংলাদেশে কে ধ্বংস করার লক্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীরা বাঙ্গালি জাতিদের উপরে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়।

এই ২৫ শে মার্চ রাতে অনেক ঘুমন্ত বাঙ্গালিদের প্রাণ হারায়। এই রাতে বঙ্গ-বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গ্রেফতার করা হয়। এই দিন টি ছিল বাঙ্গালিদের এক কলঙ্কময় রাত। যার কারণে এই ২৫ শে মার্চ কে কাল রাত বলা হয়।

৭ই মার্চের ভাষণঃ বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাঙ্গালিদের পাকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্তি প্রদানের লক্ষে রেসকোর্স ময়দানে এক ইতিহাসিক ভাষণ দেয়। এই ভাষণের মূল উদেশ্য ছিল যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। বঙ্গ বন্দুর দেওয়া এই ৭ই মার্চের ভাষণ কে ঐতিহাসিক ভাষণ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

স্বাধীনতা দিবসঃ বাংলাদেশের বাঙ্গালিরা পাকিস্তানিদের হাতে শাসন। শোষ ও নিপীড়ন হলে বঙ্গ-বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা করেন। তখন লাখ বাঙ্গালি মুক্তি যুদ্ধের অনুপেরনা পায়।  এই থেকে মুক্তি যুদ্ধের সূচনা প্রকাশ পায়। বাঙ্গালি তখন যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার অনুপেরনা পায়। প্রতি বছর ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়।

বিজয় অর্জনঃ অনেক তাগ-তিথিক্ষা সহ্য করার পর বাঙ্গালিরা ২৬ শে মার্চ কে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষে সবাই পাকিস্তানের বীরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়। এখানে লাখ বাঙ্গালিদের সাথে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা সহ আরও অনেকে এই যুধে অংশ নেয়। এই মুক্তে যুধে নারীদের ভূমিকাও ছিল অনেক।

সব মিলিয়ে যুদ্ধে বহাবহ রূপ ধারণ করলে পাকিস্তানিরা পিছু পা হয়। বাঙ্গালিদের প্রাণ ত্যাগের বিনিময়ে দির্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর বাঙ্গালি জাতি স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ কে স্বাধীনতা দেওয়ার মাধ্যমে ত্যাগ স্বীকার করে।

উপসংহারঃ আমাদের এই আজকের বাংলাদেশ রক্ষার্থে লাখো শহিদের অবদান রয়েছে। আমারা তাদের সারা জীবন স্মরণ করবো। তাদের প্রায় ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমারা লাল সবুজের পতাকা অর্জন করি। সেই সাথে অর্জন করি এক স্বাধীন বাংলাদেশ। শহিদের অবদানে আজ আমরা সবাধইন দেশের নাগরিক।

শেষ কথা

এই ছিল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস নিয়ে রচনা। আশা করছি রচনা টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই শেষ। আশা করছি নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে দেখা হবে। যেকোনো ধরনের সমস্যার সমাধান পেতে আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট টি ভিজিট করতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করা হয়। এই রকম আরও ভালো ভালো পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন। আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *